স্বাস্থ্য ডেস্ক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ১৪ আগস্ট , ২০২৫
নতুনভাবে এডিএইচডি (Attention Deficit Hyperactivity Disorder বা মনোসংযোগ এবং অতিরিক্ত উদ্দীপনা সমস্যাজনিত ব্যাধি) নির্ণয় প্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য ঔষধপদ্ধতিগত চিকিৎসা জীবনযাত্রার বিভিন্ন ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকদ্রব্য ব্যবহারের ঝুঁকি, আত্মহত্যার প্রবণতা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অপরাধমূলক আচরণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
এডিএইচডি এমন একটি অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্ক অন্যান্য মানুষের থেকে ভিন্নভাবে কাজ করে। এর লক্ষণ হলো মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন, স্থিরভাবে বসে থাকা কষ্টকর, উচ্চশক্তি এবং হঠাৎ উদ্দীপনা বা আচরণ। বিশ্বব্যাপী শিশুদের প্রায় ৫% এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২.৫% এই রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়।
গবেষণাটি সুইডেনে ৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ এডিএইচডি আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর ভিত্তি করে করা হয়। ৫৭% ঔষধ শুরু করেছিলেন, যার মধ্যে ৮৮% মিথাইলফেনিডেট (Ritalin) ব্যবহার করেছেন। ফলাফল দেখায়, ঔষধ গ্রহণের সঙ্গে প্রথমবারের ঘটনা হিসেবে ঝুঁকি কমেছে: আত্মহত্যার প্রবণতা ১৭%, মাদকদ্রব্য ব্যবহার ১৫%, সড়ক দুর্ঘটনা ১২% এবং অপরাধমূলক আচরণ ১৩%। পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণে দেখা গেছে আত্মহত্যার চেষ্টা ১৫%, মাদকদ্রব্য ব্যবহার ২৫%, দুর্ঘটনা ৪%, সড়ক দুর্ঘটনা ১৬% এবং অপরাধমূলক আচরণ ২৫% কমেছে।
গবেষকরা মনে করেন, ঔষধ উদ্দীপনা ও মনোযোগের অভাব কমিয়ে দুর্ঘটনা এবং আক্রমণাত্মক আচরণ কমাতে সাহায্য করে। তবে জিন, জীবনধারা এবং এডিএইচডির তীব্রতা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক দেশে সঠিক ঔষধ পাওয়া কঠিন এবং যুক্তরাজ্যে বিশেষজ্ঞ দেখার পর ঔষধ পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।
গবেষণার মূল বার্তা হলো, এডিএইচডি ঔষধ কেবল লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে নয়, জীবনযাত্রা ও আচরণগত ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি আত্মহত্যা, মাদকদ্রব্য ব্যবহার, দুর্ঘটনা এবং অপরাধমূলক আচরণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই নতুনভাবে নির্ণয় প্রাপ্ত রোগীদের জন্য ঔষধ গ্রহণ সিদ্ধান্তে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে।