প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ৮ অক্টোবর , ২০২৫
২০২৫ সালের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী—জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ দ্যভোরে ও জন মার্টিনিস। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই বছরের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার কোয়ান্টাম প্রযুক্তির পরবর্তী প্রজন্মের উন্নয়নকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁদের গবেষণা কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি, কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও কোয়ান্টাম সেন্সরের মতো অগ্রসর প্রযুক্তির সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।”
বিজয়ীদের পরিচয় অনুযায়ী, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত জন ক্লার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের অধ্যাপক। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া মিশেল এইচ দ্যভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারার অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। আর জন মার্টিনিস ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারার অধ্যাপক।
পুরস্কারের অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার)। তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে এই অর্থ সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে।
এই তিন বিজ্ঞানী কোয়ান্টাম বলবিদ্যার জটিল ও রহস্যময় জগৎকে মানুষের দৃশ্যমান বা বড় পরিসরের (ম্যাক্রোস্কোপিক) কাঠামোয় বাস্তবভাবে প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছেন। সাধারণত কোয়ান্টাম ঘটনাগুলো ঘটে অতিক্ষুদ্র (মাইক্রোস্কোপিক) জগতে—পরমাণু বা উপপরমাণবিক স্তরে। কিন্তু এই গবেষকেরা সেই অদ্ভুতুড়ে ঘটনাগুলো বড় পরিসরে ঘটিয়ে হাতে ধরে দেখানোর মতো করে তুলেছেন।
এই প্রায় ‘অসম্ভব’ কাজটি তারা করেছেন বিশেষ এক ধরনের অতিপরিবাহী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা (সুপারকন্ডাকটিং সিস্টেম) তৈরি করে। এই সিস্টেম এমনভাবে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হতে পারে, যেন কোনো বস্তু দেয়াল ভেদ করে অপর পাশে চলে যাচ্ছে—যা কোয়ান্টাম জগতে ‘টানেলিং’ নামে পরিচিত এক ঘটনা।
তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারই কোয়ান্টাম প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, যার সম্ভাবনা ভবিষ্যতের সুপারফাস্ট কম্পিউটিং ও নিরাপদ তথ্য বিনিময়ের জগতে অপরিসীম।