প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ১০ জুলাই , ২০২৫
পড়ার আদর্শ টেবিল-চেয়ার শিক্ষার্থীর মনোযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পড়াশোনার অভ্যাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি আদর্শ টেবিলের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আরামদায়ক উচ্চতা, পর্যাপ্ত জায়গা, ভালো আলো ও স্থিতিশীলতা।
ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞদের মতে, টেবিল ও চেয়ার এমন হওয়া উচিত, যাতে পড়াশোনার সময় শারীরিক ভঙ্গি ঠিক থাকে। ঘাড় ও কোমর ব্যথায় আক্রান্ত না হন।
টেবিল কেমন ভালো
-টেবিলের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত, যাতে বসার সময় কোমর ও কাঁধ স্বাভাবিক অবস্থান থাকে।
-টেবিলের উচ্চতা এমন হতে হবে, যাতে কনুই ৯০ ডিগ্রি কোণে রেখে হাত আরাম করে টেবিলে রাখা যায়।
-প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত উচ্চতা ২৮–৩০ ইঞ্চি আর শিশুদের জন্য ২২–২৬ ইঞ্চি ।
-বই, খাতা, ল্যাম্প, পানির বোতল, ল্যাপটপ ইত্যাদি রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে।
-আদর্শ টেবিলের প্রস্থ আড়াই থেকে তিন ফুট এবং দৈর্ঘ্য দেড় থেকে দুই ফুট রাখা ভালো।
-সহজে রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে, যাতে হাঁটু ও পা নড়াচড়া করা যায় এবং পা গুটিয়ে বসতে না হয়।
-হালকা কাঠের রং বা হালকা ধূসর মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক। খুব চকচকে না হওয়া ভালো। কারণ, আলোতে প্রতিবিম্ব তৈরি হলে চোখের ওপর চাপ পড়ে।
-খাতা, কলম, স্কেল, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি রাখার জন্য ছোট ড্রয়ার বা স্লাইডিং ট্রে থাকলে পড়ার সময় অপ্রয়োজনীয় ওঠা-বসা কম হবে।
-টেবিলের উপরে বা পাশে ছোট বুকশেলফ থাকলে প্রয়োজনীয় বই সহজে পাওয়া যায়।
-টেবিলটি যেন কাঠ বা ধাতব টেকসই উপাদানে তৈরি হয়।
-প্রাকৃতিক আলো সবচেয়ে ভালো, তবে রাতে ব্যবহারের জন্য এন্টি-গ্লেয়ার LED টেবিল ল্যাম্প থাকা উচিত।
-ল্যাম্প যেন চোখে সোজা না পড়ে, বরং বইয়ের ওপর আলো পড়ে।
-অপ্রয়োজনীয় সাজসজ্জা বাদ দিয়ে পড়াশোনার জন্য মনোযোগ ধরে রাখে এমন ডিজাইন ভালো।
-টেবিলের সাথে আরামদায়ক চেয়ারসহ সেটআপ
আরামদায়ক চেয়ারের বৈশিষ্ট্য
-চেয়ারে ব্যাক সাপোর্ট থাকতে হবে।
-ব্যাকরেস্ট সামান্য বাঁকানো থাকলে ও কোমরের কাছে সাপোর্ট থাকলে দীর্ঘক্ষণ বসেও ব্যথা হবে না।
-চেয়ারের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত যাতে পা মাটিতে ঠেকে এবং হাঁটু ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকে।
-প্রয়োজনে উচ্চতা বাড়ানো–কমানো যায়, এমন চেয়ার ব্যবহার করা ভালো।
-পড়ার সময় প্রয়োজন হলে হাতে সামান্য বিশ্রাম দেওয়ার জন্য হাত রাখার জায়গা থাকতে পারে।
-চেয়ারের বসার জায়গা শক্ত নয়, এমন মৃদু নরম বা কুশনযুক্ত হলে দীর্ঘক্ষণ বসে পড়া সহজ হয়। খুব নরম বসার জায়গা না নেওয়াই ভালো। কারণ, তা ভেতরে বসে গিয়ে পিঠ বাঁকা করে ফেলে।
বসার সঠিক ভঙ্গি: মেরুদণ্ড সোজা রাখা উচিত। ঘাড় সামান্য নিচু করে বই দেখলেও মেরুদণ্ড বাঁকানো যাবে না। পা পুরোপুরি মাটিতে রেখে বসা ভালো। টেবিলের খুব কাছে না গিয়ে সামান্য দূরে বসা, তবে হাত আরাম করে টেবিলে রাখা যাবে।