প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিনব্যাপী ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন শেষ হয়েছে। শনিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মডেল ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে কার্যকর বহুপাক্ষিকতাকে সুসংহত করা।’
সমাপনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকায় জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক, ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান আলবার্তো জিওভানেত্তি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. রাকিব-উজ-জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল আহতাব জামিল মাহিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যা জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
তিনি তরুণদের এ কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত ভিত্তি স্বচ্ছতার মধ্যে নিহিত। সততা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারের বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সরকার যৌথভাবে কাজ করছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম কাঙ্ক্ষিত সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তরুণরা শুধু ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করে না; বর্তমান সময়েই তারা বিচার-বিবেচনা, দায়িত্ববোধ ও দৃঢ়তার পরিচয় দিতে পারে।
তিনি বলেন, তরুণরা নিজেদের সংগঠিত করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে। সীমিত সম্পদ দিয়েও তারা নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সক্ষমতা রাখে। তরুণদের উৎসাহ ও স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। চার দিনব্যাপী আয়োজনে লিঙ্গ বৈষম্য, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, আর্থ-সামাজিক বিষয়, মানবাধিকার, মানবপাচার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, অভিবাসন নীতি, ভূ-রাজনীতি ও কূটনীতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষার্থীরা।