Logo
ঢাকা রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
Logo

সমকামিতা: মানসিক রোগ নাকি জৈবিক বৈচিত্র্য

প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

শেয়ার করুনঃ
সমকামিতা: মানসিক রোগ নাকি জৈবিক বৈচিত্র্য


মানুষের পারস্পরিক আকর্ষণ ও মনস্তাত্ত্বিক রূপ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং সমাজব্যবস্থায় নানান বিতর্ক চলে আসছে। এর মধ্যে সংবেদনশীল ও আলোচিত একটি বিষয় হল, সমকামিতা বা সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ, যাকে বলা হয় ‘হোমোসেক্সুয়ালিটি’।


সাধারণ সমাজব্যবস্থায় এটি নিয়ে নানান ধারণা, সামাজিক কুসংস্কার এবং ট্যাবুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, সমকামিতা কি কোনো মানসিক রোগ? কেন মানুষ সমকামী হয়? এর পেছনের বিজ্ঞানসম্মত মনস্তত্ত্ব ও সমাজ বাস্তবতার নিবিড় বিশ্লেষণ বর্তমান যুগে দরকারও আছে।


সমকামিতা কি কোনো মানসিক রোগ বা ব্যাধি?

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সংস্থাগুলোর গবেষণা অনুযায়ী, সমকামিতা কোনো মানসিক রোগ, ব্যাধি বা বিকৃতি নয়। এটি মানুষের যৌন অভিমুখিতার একটি জৈবিক বৈচিত্র্য।

চিকিৎসা সংস্থা আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ), তাদের প্রাতিষ্ঠানিক মেডিকেল জার্নাল ও গাইডলাইনে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ১৯৭৩ সালেই সমকামিতাকে মানসিক রোগের তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯০ সালে, তাদের আন্তর্জাতিক রোগ শ্রেণীকরণ তালিকা থেকে সমকামিতাকে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও ত্রুটিপূর্ণ বিবেচনা করে বাদ দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি ‘হেটেরোসেক্সুয়ালিটি’ বা বিষমকামিতার মতোই মানব আচরণের একটি প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া রূপান্তর।

মানুষ কেন সমকামী হয়?

কোনো মানুষ কেন সমকামী বা বিষমকামী হয়ে জন্ম নেয়, তার সুনির্দিষ্ট একক কোনো কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ মানুষের সমলিঙ্গের প্রতি আচরণ এবং এর জিনগত বা বংশগত সংযোগ নিয়ে বড় আকারের গবেষণাটি ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট প্রকাশিত হয়।

এই গবেষণার প্রধান গবেষক ছিলেন ‘ব্রড ইনস্টিটিউট অফ এমআইটি’ ও ‘হার্ভার্ড’-এর বিজ্ঞানী ডা. বেন নিয়ালে। আর গবেষণাপত্রটির মূল লেখক ছিলেন আন্দ্রেয়া গান্না।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষা করে প্রমাণ করা হয়েছিল যে, মানুষের সমকামিতার পেছনে একক কোনো ‘গে জিন’ দায়ী নয়, বরং শত শত জিনগত ভ্যারিয়েন্ট এবং পরিবেশের জটিল মিথস্ক্রিয়া এর জন্য কাজ করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ।

জেনেটিক বা বংশগত উপাদান: ডিএনএ এবং ক্রোমোজোমের কিছু সুনির্দিষ্ট বিন্যাস মানুষের অবচেতন আকর্ষণের গতিপথ নির্ধারণ করে।

গর্ভকালীন হরমোনের প্রভাব: মায়ের গর্ভে থাকার সময় ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশের দিনগুলোতে ‘এন্ড্রোজেন’ বা টেস্টোস্টেরনের মতো হরমোনের তারতম্য শিশুর ভবিষ্যতের যৌন অভিমুখিতা গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।


পরিবেশগত মনস্তত্ত্ব: শৈশবের সামাজিকীকরণ, পারিবারিক পরিবেশ এবং স্নায়বিক বিকাশও এর সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের ধারণা।


Campus Mirror
শেয়ার করুনঃ

এই বিভাগের আরোও খবর

  • টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে যা বলছে বিএসটিআই
    টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে যা বলছে বিএসটিআই
  • ডেঙ্গু ঠেকাতে ফুলহাতা শার্ট, পায়জামা পরার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
    ডেঙ্গু ঠেকাতে ফুলহাতা শার্ট, পায়জামা পরার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
  • আদ-দ্বীন হাসপাতাল খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
    আদ-দ্বীন হাসপাতাল খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
  • প্রধানমন্ত্রীকে অভাব-অভিযোগ শোনালেন ডিএমসির চিকিৎসকরা
    প্রধানমন্ত্রীকে অভাব-অভিযোগ শোনালেন ডিএমসির চিকিৎসকরা
  • বর্ষার শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী ডেঙ্গুর সংক্রমণ
    বর্ষার শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী ডেঙ্গুর সংক্রমণ
  • জুয়ায় জড়ালে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাবাস
    জুয়ায় জড়ালে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাবাস
  • ডাক্তার আব্দুল্লাহ কী বিধিবিধানের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন সায়ন্থের
    ডাক্তার আব্দুল্লাহ কী বিধিবিধানের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন সায়ন্থের
  • সবার জন্য অক্সিজেন : নতুন করে ভাবার সময় এখনই
    সবার জন্য অক্সিজেন : নতুন করে ভাবার সময় এখনই
  • হৃদ্‌রোগে ৫২% মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ
    হৃদ্‌রোগে ৫২% মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ
  • চরম গরমে মস্তিষ্কের জন্য বাড়ছে অদৃশ্য হুমকি
    চরম গরমে মস্তিষ্কের জন্য বাড়ছে অদৃশ্য হুমকি
Logo