হোসাইন সাজ্জাদ, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ, সাবেক পিজি) ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ওই পদে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দিতে হবে তাকে।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই দীর্ঘ এক ফেইসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন বিএনপিপন্থি চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ।
স্ট্যাটাসে সায়ন্থ বলেন, অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ তারও শিক্ষক এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি তাকে পছন্দ করেন। তবে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে তার নিয়োগ বাতিলের সমালোচনায় অনেকেই প্রকৃত তথ্য না জেনে কিংবা আবেগের বশে মন্তব্য করছেন বলে তার ধারণা।
তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শত শত চিকিৎসক নিয়োগ বাতিল, পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হলেও সে কারণে আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস পদ বাতিল হওয়া উচিত নয়। একইভাবে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক থাকা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দেওয়া বক্তব্য কিংবা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় নীরব থাকার অভিযোগও তার নিয়োগ বাতিলের যৌক্তিক কারণ হতে পারে না বলে মত দেন তিনি।
সায়ন্থের দাবি, নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নয়; বরং বিধিবিধান অনুসরণ না করে নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিণতি। তার ভাষ্য, ২০২২ সালে তিন বছরের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে আব্দুল্লাহর নিয়োগ দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের জুনে তাকে আজীবনের জন্য ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি
দাবি করেন, সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুমোদনের একই সিন্ডিকেট সভায় সেই সংশোধিত বিধির আওতায় নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়, যা বিধিবহির্ভূত। এছাড়া অর্থ বিভাগের বাধ্যতামূলক অনুমোদনও নেওয়া হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
"আব্দুল্লাহ স্যার খ্যাতনামা ও জনপ্রিয় চিকিৎসক, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাই বলে তিনি কি বিধিবিধানের ঊর্ধ্বে?"—স্ট্যাটাসে প্রশ্ন তোলেন সায়ন্থ।
বেতন-ভাতা ফেরতের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুনের পর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে আব্দুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের একাডেমিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ বাতিল হলে ওই সময়ের সম্মানী ফেরত চাওয়াও বিধি অনুযায়ী হয়েছে বলে তার দাবি।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে সায়ন্থ দাবি করেন, আব্দুল্লাহ ওই সময়ে মাসে ২৯ হাজার ৯৯০ টাকা করে মোট ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৮৫ টাকা ভাতা নিয়েছেন। নিজের দেওয়া তথ্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি তার কাছে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।