প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে নিজেদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া ও অভিযোগ তুলে ধরেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিনী এ মেডিকেলের সাবেক শিক্ষার্থী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
কলেজের ডা. শামসুল আলম খান মিলন মিলনায়তনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের (ডিএমসিয়ান) ভাবনা শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘‘ইউকেতে (যুক্তরাজ্যে) চিকিৎসকদের বয়স হচ্ছে ৬৫/৬৭। আমরা ৫৯ এ চলে যাই, ৫৯ এখন কোনো বয়স না। আপনি জানেন যে আমাদের গড় আয়ু বেড়ে গেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ দিবস উপলক্ষে কলেজ কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যিনি ডিএমসির ৪৩তম ব্যাচের এমবিবিএস শিক্ষার্থী ছিলেন।
কে-৫৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. আহমেদ এহসানুর রহমানের সঞ্চালনায় ৭৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদিয়া তাসনীম ১৯০৪ সালে নির্মিত মেডিকেল কলেজ ভবন আধুনিকায়নের দাবি জানান। বলেন, “ভবনের বিভিন্ন অংশ ইতমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।”
তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জোহায়ের ইসলাম স্মরণ মেডিকেল কলেজের পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিদেশের পাঠ্যক্রমের উদাহরণ দিয়ে বেসিক, প্যারা ক্লিনিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল সাবজেক্টের সমন্বয় ঘটানোর কথা বলেন।
তিনি সপ্তাহের ছয় দিন মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের ঠাসা শ্রেণি কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করার প্রস্তাব দেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডাক্তার সাহেব, আপনাদের এই রুটিনটার সাথে আমি পরিচিত। শিক্ষার্থীদের ছুটির বিষয়টি এখানে যারা শিক্ষক আছেন তারা বিবেচনা করবেন। সপ্তাহে সাত দিন আমিও কাজ করি।”
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, “আমরা বিভিন্ন কিছু দেখি যেটা অনেক সময় কষ্ট লাগে। আপনাদের কাছে আমাদের যেটা প্রত্যাশা থাকবে, এই দেখার বিষয়গুলো দিন দিন যাতে কমে আসে। যে নেতিবাচক যে বিষয়গুলো আমরা দেখি বিভিন্নভাবে সেগুলো ইনশাল্লাহ দিন দিন কমে আসবে।”
৭৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. রকিবুল হাসান চৌধুরী সায়মন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্ট গেজুয়েট ট্রেইনির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ইন্টার্নরা কাজ শেখার সুযোগ সেভাবে না পাওয়ার কথা তুলে ধরে সবার সহযোগিতা চান।
এসময় কেন সুযোগ পান না প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তখন ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘আমাদের ওয়ার্ডগুলোতে পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনির সংখ্যা অনেক বেশি।”
সমাধানটা কী? জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘এটার সমাধান হচ্ছে ইন্টার্নদের প্রতি আরেকটু বেশি ফোকাস দিতে হবে এবং এদের কাজ করার সুযোগটা আরেকটু বাড়াতে হবে।”
কে করবে? জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। তখন সায়মন বলেন, ‘‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।”
তারেক রহমান বলেন, “সমাধানটা আপনাদের কাছেই আছে। আপনাদেরকেই বসে সমাধান বের করতে হবে, তাই না।”
উন্মুক্ত আলোচনায় সাবেক শিক্ষার্থী সংসদ সদস্য মোছলেহ উদ্দিন ফরিদ, আইসিডিডিআরবির শরীফুল ইসলাম ববি ও ডা. দেবব্রত আইস মজুমদার তাদের ভাবনার কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রতিমন্ত্রী এমএন মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এসএম জিয়া হায়দার, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।