প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একাডেমিক, আবাসিক, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ৭২৭ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭৮ কোটি ১৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকার একটি প্রকল্প শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় এবং ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকার টিচার-স্টুডেন্টস কমপ্লেক্স (টিএসসি) নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আলতাফ-উল-আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) নথি অনুযায়ী, প্রকল্প দুটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৭২৭ কোটি ৪৮ লাখ ২১ হাজার টাকা। আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ দুটি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮২ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
৬৭৮ কোটি ১৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকার ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পে একাধিক একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, গবেষণা অবকাঠামো এবং ক্যাম্পাসের মৌলিক সুবিধা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ২য় বিজ্ঞান অনুষদ ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ ভবন নির্মাণে ১৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ২য় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবন নির্মাণে একই পরিমাণ অর্থ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ২য় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন নির্মাণে ৮৩ কোটি ৫৭ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
ছাত্রীদের জন্য ১০ তলা আবাসিক হল নির্মাণে ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, ১০ তলা প্রশাসনিক (অ্যানেক্স) ও সিনেট ভবন নির্মাণে ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ছাত্রীদের হল প্রভোস্ট ও হাউস টিউটরদের জন্য পাঁচতলা আবাসিক ভবন নির্মাণে ৮ কোটি ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মাস্টারদা সূর্যসেন হলের দুই তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে ২ কোটি ৮৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৪৯ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নয়তলা সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ভবন এবং ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড অ্যাডভান্সড বায়োলজিকাল রিসার্চ ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি কেনায় ১২ কোটি টাকা এবং রাসায়নিক সংগ্রহে ১০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসের অবকাঠামো উন্নয়নে অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, পানি ও গ্যাস সরবরাহ লাইন, ভূগর্ভস্থ পানি রিজার্ভার, এসটিপি ও প্রাকৃতিক পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচার-স্টুডেন্টস কমপ্লেক্স (টিএসসি) প্রতিষ্ঠাকরণ’ প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাঁচতলা ভিত্তির ওপর চারতলা টিএসসি ভবন নির্মাণে ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একাডেমিক, সাংস্কৃতিক, প্রকাশনা ও কো-কারিকুলার কার্যক্রমের সুযোগ তৈরিই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, টিএসসি প্রকল্পটি ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ধাপ পেরিয়ে বর্তমানে জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। কমিশনের অনুমোদনের পর এটি প্রজেক্ট ইভ্যালুয়েশন কমিটির (পিইসি) মাধ্যমে একনেকের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, দুটি প্রকল্প দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত, একাডেমিক ও গবেষণার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অনেকাংশে দূর হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আরও কয়েকটি প্রকল্প প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাবে ছাত্রদের জন্য পাঁচটি ও ছাত্রীদের জন্য পাঁচটি ১০ তলা আবাসিক হল, বিদেশি শিক্ষার্থী ও পিএইচডি-এমফিল গবেষকদের জন্য আবাসিক হল এবং চারটি ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ব্লু-ইকোনমি রিসার্চ সেন্টার, কেন্দ্রীয় জাদুঘর, গ্রন্থাগারের দ্বিতীয় ভবন, স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আধুনিক গবেষণাগার, ৫০ শয্যার হাসপাতাল, ডে-কেয়ার সেন্টার, শিক্ষকদের আবাসিক ভবন, ওয়াকওয়ে, ফুড কোর্ট ও ওয়েট মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আবাসিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।